BreachTimes Logo
Independent Investigative Journalism • Leaks • Documents • Truth
June 06, 2026 | INVESTIGATION

পাহাড় নিয়ে মুখোশের আড়ালে ‘Traveller Girl’ এর রাষ্ট্রবিরোধী ভয়ংকর মিশন।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন মানুষের আত্মপ্রকাশের পথ সুগম করেছে, তেমনই কিছু বিবেকহীন মানুষের জন্য রাতারাতি সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজ কোনো নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে কেবল 'ভিউ ব্যবসা' এবং আর্থিক লোভে লিপ্ত রয়েছে। কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায়, সেই হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এই সমস্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সমাজ ও রাষ্ট্রকে এক চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাকস্বাধীনতার আড়ালে যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের সুগভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তখন তার মুখোশ উন্মোচন করা সচেতন নাগরিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক সময়ে ‘Traveller Girl’ নামক একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে যে ধরনের উস্কানিমূলক ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা এক ভয়ানক বিপদের সঙ্কেত বহন করে। নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন মুসলিম ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। নারী সমাজের অর্ধাংশ, মায়ের জাত। কিন্তু যখন কোনো নারী নিজের জাতীয় পরিচয়, দেশপ্রেম, আদর্শ এবং ন্যূনতম নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক, কমেন্ট ও ডলার উপার্জনের জন্য রাষ্ট্রবিরোধী মিশনে নামে, তখন তাকে আর সাধারণ শ্রদ্ধার আসনে রাখা যায় না। বর্তমান সময়ে ফেসবুকের 'Traveller Girl' নামক পেজটি ঠিক এই বিপজ্জনক পথেই হাঁটছে। নিজের প্রকৃত নাম ও পরিচয় গোপন রেখে, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে এই নারী নিজেকে অত্যন্ত আধুনিক ও চতুর প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। নিজের রূপলাবণ্য এবং শারীরিক সৌন্দর্য প্রদর্শন করে পাহাড়ের উগ্র উপজাতি যুবকদের মোহিত রাখাই তার মূল কৌশল। তিনি নিয়মিত পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে ব্লগ ভিডিও নির্মাণ করেন। বাহ্যিকভাবে একে সংস্কৃতি চর্চা মনে হলেও, এর অন্তরালে রয়েছে এক গভীর রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত। তিনি তার প্রতিটি পোস্টে ও ভিডিওতে সুকৌশলে স্পর্শকাতর 'আদিবাসী' শব্দটিকে প্রমোট করছেন এবং বাঙালি জাতিকে 'সেটেলার' হিসেবে চিত্রায়িত করছেন। তার এই কর্মকাণ্ড কেবল একটি পেজের ভিউ বাড়ানোর ব্যবসায়িক কৌশল নয়; এর পেছনে কোনো শক্তিশালী দেশবিরোধী এনজিও কিংবা অদৃশ্য কোনো মহলের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। বাংলাদেশের অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এই ধরনের প্রচারণাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। নিজের হীন স্বার্থের জন্য যে নারী দেশের বাহিনীকে বিতর্কিত করার এবং রাষ্ট্রকে খণ্ডিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, সে জাতির কলঙ্ক ছাড়া আর কিছুই নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'Traveller Girl' এর আচরণ অত্যন্ত উদ্ধত ও মার্জিত রীতিনীতি পরিপন্থী। তার কিছু পোস্ট, যা পাঠকের জ্ঞাতার্থে হুবহু তুলে ধরা হলো: ৯ মে, "যে চোর গুলা সমতলে চুরি করা শেষ এখন পাহাড় চুরি করতে গেছে তাদের অনেক জলে তাইনা?" ২২মে, "১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে হওয়া পরে, বাংলাদেশের মানচিত্রের মধ্যে যে পাহাড় গুলো পরেছে তা আমার দেশের কিছু বাঙালিরা গিয়ে আমেরিকা/লন্ডন থেকে কিনে এনে বসিয়ে দিয়েছেপাহাড় গুলো। তাই তারা পাহাড়ে বসবাস করা আদিবাসীদের কথায় কথায় বলে দেশ ছাড়। ওদের বাপদাদারা কিনে এনেছিলো তো তাই। কি ভাইয়া রাগ করলা?" ২৭ মে, "আদিবাসীরা কি খায় তা নিয়ে অনেকের খুব মাথাব্যথা কিন্তু আমাদের দেশে অনেক ভিনদেশি মানুষ এসে বিভিন্ন কিছু খায়, তাদের সেই খাবার গুলোর জন্য বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট আছে। তাতে আমাদের আবার সমস্যা হয় না। সব হারাম কাজ করে বেরায় তারা আবার খাবারে হারাম খুঁজতে আসে..." এধরণের উস্কানিমূলক পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে এই পেজে কোনো দেশপ্রেমিক বাঙালি যদি যৌক্তিক ও ইতিবাচক মন্তব্যও করেন, তবে তাকে অত্যন্ত জঘন্যভাবে অপদস্ত, হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়। বাঙালি নেটিজেনদের প্রতি তার ভাষা প্রয়োগ এতটাই নিম্নমানের যা কোনো সভ্য সমাজের মানুষের হতে পারে না। চেহারা যেভাবে চাকচিক্য দেখায়, তার মানসিকতা মোটেও তেমন নয়। উপজাতিদের সস্তা বাহবা এবং ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি অনবরত বাঙালিদের প্রতি বিষোদ্গার করে চলেন। এর ফলে তিনি পাহাড়ের এক বিশাল উগ্র উপজাতি পাঠকগোষ্ঠীকে নিজের পেজে টানতে সক্ষম হয়েছেন। পাহাড়ের উগ্রপন্থীদের মনস্তত্ত্ব এমন যে, কেউ তাদের পক্ষে কথা বললে তাকে সাময়িকভাবে পরম আপন করে নেয়, এমনকি নিজেদের স্বার্থে অন্যকে মানহানি করতেও তারা দ্বিধাবোধ করে না। এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যখন মালয়েশিয়া প্রবাসী উপজাতি শান্তি কুমার চাকমার (Shanti Kumar Chakma) সাথে ‘Traveller Girl’ এর দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সেই দ্বন্দ্বে পাহাড়ের উপজাতি ব্লগাররা তাদের স্বজাতির শান্তি কুমার চাকমার পক্ষে অবস্থান না নিয়ে এই বাঙালি নারী তথা ‘Traveller Girl’ এর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আওয়াজ তোলে। এর ফলে শান্তি কুমার চাকমা কিছুটা দমে যেতে বাধ্য হন এবং ‘Traveller Girl’ নিজেকে অপরাজেয় মনে করে বাঙালিদের প্রতি আরও বেশি আগ্রাসী ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সাহস পান। মূলত উপজাতিরা এখন তার উপার্জনের এবং সস্তা জনপ্রিয়তার প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই চক্রটি একাধিক পেজের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে সচল থাকা প্রধান পেজটির নাম ‘Traveller Girl’, যা ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ সালে খোলা হয়েছিল। বর্তমানে এই পেজটিতে ৭৬ হাজারেরও বেশি লাইক রয়েছে এবং এখান থেকেই নিয়মিত রাষ্ট্রবিরোধী, সেনাবাহিনী বিরোধী উস্কানিমূলক পোস্ট এবং উপজাতিদের 'আদিবাসী' হিসেবে প্রমোট করার ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে। এর আগে তার ‘Explorer girl J’ নামে একটি পুরাতন পেজ ছিল, যার লাইক সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারির পর থেকে উক্ত পেজটিতে সমস্ত প্রকার পোস্ট করা বন্ধ রয়েছে। ধারণা করা হয়, কোনো বড় ধরনের অপরাধ বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে পেজটি বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া তার নামের অর্থ অনুসারে ‘গ্রাম্য বালিকা’ নামে একটি পেজ খোলা হলেও বর্তমানে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একই সাথে ‘Explore With J’ নামে ১৫০০ লাইকের আরেকটি পেজ থাকলেও মাত্র কয়েকটি পোস্ট করার পর সেটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শান্তি কুমার চাকমার সাথে বিতর্ক ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি: কক্সবাজারের বাসিন্দা এবং বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রবাসী শান্তি কুমার চাকমা নামক এক উপজাতি যুবকের সাথে ‘Traveller Girl’ এর সাম্প্রতিক বিবাদটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘Traveller Girl’ এর অতিমাত্রায় উপজাতি পোশাক পরিধান, অতিরঞ্জিত তোষামোদ এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখে শান্তি কুমার চাকমা তাকে নিয়ে একটি 'রোস্ট ভিডিও' বা সমালোচনামূলক ভিডিও তৈরি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ‘Traveller Girl’ গত ২৭ মে, ২০২৬ তারিখে তার ফেসবুক আইডিতে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় একটি পোস্ট করেন। উদ্ধৃতিটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো: "আমি কারো বাপের টাকা দিয়ে আদিবাসীদের পোশাক পরিনা সো তুই বলার কে? তুই বেটা নদী সাঁতার কে/টে মালোশিয়া গেছিস, ঐখানে তুই মানুষ টয়লেট পরিষ্কারের কাজ করিস সারাদিন গুয়ের গন্ধ শুনিস। তুই কেন মেয়েদের নিয়ে নোংরামি করবি" এই ঘটনার পর তিনি এখানেই ক্ষান্ত হননি। উগ্র উপজাতিদের ব্যবহার করে প্রবাসী এই যুবককে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে গত ২৮ মে, ২০২৬ তারিখে আরেকটি উস্কানিমূলক পোস্ট করেন। সেখানে তিনি মন্তব্যের বক্সে লেখেন: "বান্দরবান আমার কোন কোন আদিবাসী ভাই /বোন আছেন? আমি বান্দরবান আসবো ঐ লোক যে আমার পিক নিয়ে নোংরামি করতেছে আপনারা কি আমার সাথে থাকবেন? আমি মানহানির মামলা দিবো ও বিদেশে , ওর পরিবারের মানুষ দের ধরা হবে । আপনারা কি থাকবেন আমার সাথে?" তার এই আইনবহির্ভূত এবং প্রতিশোধপরায়ণ চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে অনিমেষ চাকমা নামে এক বিবেকবান উপজাতি নেটিজেন মন্তব্য করে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তার মন্তব্যটি ছিল নিম্নরূপ: "যে আপনাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে সেই বিদেশে,কিন্তু কিন্তু হয়রানি করবেন তার পরিবারের লোকজনকে বাহ!! চমৎকার আপনার চিন্তা ভাবনা।ঠান্ডা মাথায় একবার ভাবুন।পারলে অপরাধীকে ধরেন,না পারলে, তার পরিবারকে হয়রানি করতে যাবেন না। ধন্যবাদ।" এই প্রতিবাদের পর নিজের ব্যক্তিগত ক্ষোভকে পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ দেওয়ার জন্য ‘Traveller Girl’ সেই একই দিনে (২৮ মে) অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি পোস্ট করেন। পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে দাঙ্গা বাঁধানোর উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন: "আচ্ছা সেটেলার মানে কি? আমি জানতে ইচ্ছুক। শুনলাম শান্তি নামক এক আদিবাসী ভাইকে কিছু সেটেলার উস্কানি দিচ্ছে বাঙালি মেয়েদের নিয়ে নোংরামি করতে যাতে জাতের বদনাম হয় । আরো শুনলাম সে নাকি মুসলিম হবে তাই যে মেয়েদের বোরখা পড়ার উপদেশ দিচ্ছে বোরখা না পরলে মেয়েদের গা/লি দিচ্ছে । শুভ কামনা ভাই কবে মুসলিম হবেন জানিয়েন।" এই পোস্টটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পোশাক বা ভিডিও নিয়ে দ্বন্দ্ব সম্পূর্ণভাবে শান্তি কুমার চাকমার সাথে ব্যক্তিগত স্তরে ছিল। কিন্তু সেখানে সুকৌশলে 'সেটেলার' বা বাঙালি জনগোষ্ঠীকে টেনে এনে তিনি এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের চেষ্টা করেছেন। শান্তি কুমারের দোষ বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এবং নিজেকে উপজাতিদের একমাত্র পরম বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করে আরও বেশি ভিউ ও সহানুভূতি আদায় করা। এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গৃহযুদ্ধ বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর শামিল। 'আদিবাসী' শব্দের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র ও তথাকথিত 'উপজাতি প্রেমী' গোষ্ঠী সাজার প্রসঙ্গ: পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতিদের সরলতার সুযোগ নিয়ে সমতলের একশ্রেণীর তথাকথিত প্রগতিশীল, মুক্তমনা, বামপন্থী বুদ্ধিজীবী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সর্বদা 'উপজাতি প্রীতি'র আতিশয্য দেখিয়ে আসছেন। এদের এই কৃত্রিম সহানুভূতির পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক বিশাল ব্যক্তিস্বার্থ। বিভিন্ন বিদেশি এনজিও এবং খ্রিষ্টান মিশনারি থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ এবং অনৈতিক লালসা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যে এরা প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত থাকে। এই গোষ্ঠীটি বাংলাদেশের সংবিধান, পার্বত্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের 'আদিবাসী' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। 'আদিবাসী' শব্দটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাংলাদেশ সরকার যদি এই শব্দটিকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়, তবে 'আইএলও কনভেনশন' (ILO Convention) এর নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদের অপব্যাখ্যা এবং ২০০৭ সালের 'আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র'-এর আন্তর্জাতিক আইনি সুবিধা নিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করার আইনি ভিত্তি পেয়ে যাবে। এই চরম সত্যটি অনুধাবন করতে পেরে সরকার অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে সংবিধানে এদের 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী' বা 'উপজাতি' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পাহাড়ের এই বিচ্ছিন্নতাবাদী চেতনাকে উস্কে দেওয়ার পেছনে এক দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। একসময় সুলতানা কামাল, মেজবাহ কামাল, খুশি কবির, প্রয়াত শাহরিয়ার কবির, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু কিংবা রুবাইয়া ফেরদৌসের মতো বামধারার বুদ্ধিজীবীরা এই ধারায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ইমতিয়াজ মাহমুদের মতো নারী লোভী বিতর্কিত আইনজীবী, হোসেন সোহেলের মতো শিশু বলৎকার চরিত্রের কনটেন্ট ক্রিয়েটর কিংবা আহমেদ আমান মাসুদের মতো ব্যক্তিদের উপজাতি তোষামোদ করতে দেখা গেছে। এদের অনেকেই ব্যক্তিগত নৈতিক স্খলন ও নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার পরও পাহাড়ে গিয়ে উপজাতিদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। যেমন 'রিয়াজ বাঙালি' নামক এক যুবক বাঘাইছড়ির তুলাবান এলাকায় এক উপজাতি নারীর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়েছিল। তখন উপজাতিরা তাকে সেখান থেকে বিতাড়িত করে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিরোধী কাজের জন্য গণধোলাই খেয়েছিল। এই সমস্ত সুবিধাবাদী চরিত্রগুলো দিনের পর দিন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গিয়ে উপজাতিদের চাটুকারিতা করলেও শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের উগ্রপন্থীদের সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট করতে পারেনি। দুর্ভাগ্যবশত, এনজিও এবং মতলববাজ মহলের খপ্পরে পড়ে উপজাতিদের একটি উগ্র অংশ নিজেদের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতি পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে 'আদিবাসী' স্বীকৃতির জন্য অযৌক্তিক আন্দোলন করছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ২০০৭ সালের পূর্বে এই সমস্ত জনগোষ্ঠী নিজেদের উপজাতি হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত এবং অত্যন্ত গর্বের সাথে তাদের আদি নিবাস বার্মার (মিয়ানমার) চম্পক নগর, ভারত কিংবা মঙ্গোলিয়া বলে ঘোষণা করত। অথচ বর্তমান সময়ে এসে তারা নিজেদের এই অঞ্চলের একমাত্র ভূমিপুত্র দাবি করে দেশের মূল স্রোতোধারা তথা হাজার বছরের বাঙালি জনগোষ্ঠীকে 'সেটেলার' বা বহিরাগত বলে গালি দিতে দ্বিধাবোধ করছে না। অথচ রাষ্ট্র প্রদত্ত উপজাতি কোটার সমস্ত সুবিধা গ্রহণ করে শিক্ষা, চাকরি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা অনন্য সুবিধা ভোগ করছে। কোনো সচেতন নাগরিক তাদের 'উপজাতি' হিসেবে সম্বোধন করলে তারা মারমুখী আচরণ প্রদর্শন করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ভূখণ্ডের এক অনন্য এবং বৈচিত্র্যময় অঞ্চল। এখানে বাঙালি এবং বিভিন্ন উপজাতি বা নৃ-গোষ্ঠীসহ মোট ১৩ টি জাতিসত্তার মানুষ দীর্ঘসময় ধরে বসবাস করে আসছেন। এই বৈচিত্র্যময় ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সমগ্র দেশের জন্য এক গর্বের উপাদান। তবে ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে এই অঞ্চলটি সর্বদা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির সুনজরে রয়েছে। পাহাড়ে বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এই সহাবস্থানকে কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তের কোনো শেষ নেই। সরলমনা উপজাতি জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পার্বত্য অঞ্চলকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার এক সুদূরপ্রসারী নীল নকশা বহু বছর ধরেই চলমান। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে চাটুকারিতা এবং নানাবিধ অনুনয়-বিনয়পূর্বক অভিবাসনের সুযোগ নিয়ে উপজাতিরা পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি আদায় করেছিল এবং এই অঞ্চলের নাগরিকত্ব লাভ করেছিল। সেই সময় থেকেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তাদের নিজস্ব স্বার্থ হাসিলে এই জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে আসছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশেও এই উগ্র জাতীয়তাবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী ভাবধারার অবসান ঘটেনি। যার ফলশ্রুতিতে পাহাড়ে জন্ম নেয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নানাবিধ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরও একটি উগ্র এবং বৈরী আচরণকারী অংশ এখনো শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হাতে পাহাড়ের সাধারণ, শান্তিপ্রিয় উপজাতিরাই প্রতিনিয়ত নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সারকে প্রায়শই বান্দরবানের নাফাখুমসহ পাহাড়ের বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চলে ভ্রমণ করতে দেখা যায়। তিনি বাইক রাইডিং করেন এবং পোশাকের দর্জি কাজও করেন। একজন নারীর স্বাধীনভাবে বাইক চালানো বা দেশ ভ্রমণ করা অবশ্যই একটি ইতিবাচক ও সাহসী পদক্ষেপ এবং এর জন্য সাধারণ মানুষ তাকে সাধুবাদ জানাতেই পারে। কিন্তু ভ্রমণের আড়ালে যখন রাষ্ট্রের অখণ্ডতাকে আঘাত করা হয়, পাহাড়ে দেশের বাঙালি ও সেনাবাহিনীর অবস্থানকে দুর্বল করার চক্রান্ত করা হয়, তখন কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিক তাকে ক্ষমার চোখে দেখতে পারে না। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিদের মধ্যে রাজনৈতিক অনৈক্য, বিভাজন এবং রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদী নীতির অভাবের কারণেই ‘Traveller Girl’ এর মতো চরিত্ররা পার পেয়ে যাচ্ছে। অতীতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সমতলের অনেক দালাল পাহাড়ে গিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পক্ষে দালালি করতে গিয়ে স্থানীয় বাঙালিদের গণধোলাই খেয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। রিয়াজ বাঙালির মতো চরিত্ররা যেমন তাদের অনৈতিক কর্মের জন্য উপজাতি সমাজ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রবিরোধী কাজের জন্য উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে। পাহাড়ের সাধারণ বাঙালিরা হয়তো জাতীয় রাজনীতিতে মগ্ন, কিন্তু বর্তমানের তরুণ সমাজ অত্যন্ত সচেতন। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় তারা যেকোনো সময় যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত। ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করে না, এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিণতি কখনোই শুভ হতে পারে না। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্য যেকোনো জাতির সংস্কৃতি ও অধিকার নিয়ে আলোচনা বা মতামত প্রকাশ করতেই পারেন, তা কোনো অপরাধ নয়। উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষরাও এই দেশেরই সম্মানিত নাগরিক। তাদের ন্যায্য অধিকার ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলা ইতিবাচক। কিন্তু কাউকে তোষামোদ করতে গিয়ে দেশের বৃহৎ স্বার্থ, অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া চরম রাষ্ট্রদ্রোহিতা। আজকে যে সমস্ত উগ্রপন্থী উপজাতিরা ‘Traveller Girl’ কে বাহবা দিচ্ছে এবং মাথায় তুলে নাচছে, তারা অত্যন্ত স্বার্থপর। এই নারী যদি ভবিষ্যতে কোনো একটি ছোট ভুলও করেন, তবে এই উগ্রপন্থীরাই তার চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করতে দ্বিধাবোধ করবে না। পাহাড়ের ইতিহাস অত্যন্ত নির্মম। সুতরাং, সস্তা ভিউ ব্যবসা, ডলারের লোভ এবং সাময়িক জনপ্রিয়তার মোহে অন্ধ হয়ে দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া থেকে এই সমস্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বিরত থাকা উচিত। প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত এই ধরনের ছদ্মবেশী পেজগুলোর বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে ভবিষ্যতের কোনো ‘Traveller Girl’ দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়। সংকলিত


← Back to Investigations