BreachTimes Logo
Independent Investigative Journalism • Leaks • Documents • Truth
March 03, 2026 | INVESTIGATION

Secretary Of Defense - Pete Hegseth - Exposed

Featured Image

ধোঁকার জাল

পৃথিবীটা আমরা যেমন দেখি আসলে তেমন নয়, আমরা এক বিশাল ধোঁকার জালে বন্দি।

সম্প্রতি আমেরিকান ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ পিট হেগসেথের একটি ছবি ফাঁস হয়েছে, মাত্র একটি। এই একটি ছবিই যথেষ্ট মুসলিম উম্মাহর কপালে ভাঁজ পড়াতে, অলস জীবন পরিত্যাগ করতে, জাস্ট একটি ছবি।

১. ছবিতে দেখা যায় হেগসেথের ডান হাতে আরবীতে বড় বড় করে একটি शब्द ট্যাটু করে লেখা ‘كافر’ (কাফির)! আই রিপিট, আরবীতে কাফের শব্দটা ট্যাটু করে লেখা। নামেমাত্র হোক বা প্রাকটিক্যাল প্রতিটা মুসলিম জানে, শেষ জমানায় দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে এবং তার কপালে আরবীতে লেখা থাকবে কাফের। সেই একই শব্দ একই ভাষায় হেগসেথের হাতে লেখা, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে। পৃথিবীর শক্তিধরেরা দাজ্জালের এজেন্ট হিসেবে নিয়োজিত, তারা তার প্রকাশের পথ সুগম করছে এবং পৃথিবীর সবথেকে শক্তিধর সুপার পাওয়ার দেশের সর্বোচ্চ সেক্টর তার এজেন্টরা পরিচালনা করছে। সবকিছুই এই ট্যাটুতেই সীমাবদ্ধ থাকলে একটা কথা ছিল, কিন্তু হেগসেথ সম্পর্কে আরও কিছু বিস্ফোরক তথ্য আছে, যেই বিচ্ছিন্ন তথ্যগুলো একত্র করে জোড়া দিলে পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাবে। তো চলেন সেই আলোচনা শুরু করা যাক।

২. হেগসেথ একই সাথে তার হাতে ল্যাটিন ভাষায় আরেকটি শব্দ লিখেছে ‘Deus Vult’। ল্যাটিন ব্যাকরণ অনুযায়ী, Deus মানে ঈশ্বর এবং Vult মানে চাওয়া, এক কথায় এর অর্থ God wills it, ঈশ্বরের চাওয়া বা ঈশ্বর যা চান। এখন আপনি ভাবছেন, এটা তো খাঁটি ঈমানদারের মতো কথা, আমাদের ভাষায় আল্লাহ ভরসা কথার অনুরূপ, তো এখানে খারাপের কী আছে? হ্যাঁ, আছে, খারাপের অনেক কিছুই আছে, কিন্তু আমাদের অবচেতন মস্তিষ্ক ও চিন্তা সেটা ক্যাচ করতে পারে না।

  • ‘Deus Vult’ (ঈশ্বর যা চান) এটি শুধুমাত্র একটি খোদাভীতি বাণী নয়, এই বাক্যের ইতিহাস অনেক ভয়াবহ। সাল ১০编制 খ্রিস্টাব্দ, পোপ আরবান দ্বিতীয় (Pope Urban II) যখন মুসলিমদের কাছ থেকে জেরুজালেম দখল করার জন্য খ্রিস্টানদের প্রতি যুদ্ধের আহ্বান জানান, তখন সমবেত জনতা আবেগাপ্লুত হয়ে চিৎকার করে উঠেছিল, "Deus lo vult!" পরবর্তীকালে এটি ক্রুসেডারদের অফিশিয়াল যুদ্ধধ্বনি (Battle Cry) হয়ে দাঁড়ায়। তারা বিশ্বাস করত যে, এই যুদ্ধে রক্তপাত করা স্বয়ং ঈশ্বরের আদেশ এবং এর মাধ্যমে তাদের সমস্ত পাপ মোচন হবে।
  • সেই থেকে খ্রিস্টান সামরিক গোষ্ঠী, বিশেষ করে নাইটস টেম্পলারদের কাছে এটি ছিল একটি পবিত্র বাণী। তারা তাদের বর্ম, পতাকা এবং অস্ত্রশস্ত্রে এই বাক্য ব্যবহার করে এটি বোঝাত যে, তারা যা করছে তা যতই নিষ্ঠুর হোক না কেন, তা ঐশ্বরিক অনুমোদনে হচ্ছে।
  • আপনি গণহত্যা ও খুনের অনুমোদন যখন সরাসরি ঈশ্বরের থেকে প্রাপ্ত মনে করেন, তখন আর আপনাকে ঠেকায় কে? ঠিক খুনি ক্রুসেডাররাও এই স্লোগান ধারণ করে ঈশ্বরের ইচ্ছায় লক্ষ লক্ষ মুসলিমদের হত্যা করেছে, নারীদের ধর্ষণ করেছে, তাদের আব্রু ছিনিয়ে নিয়েছে এবং জেরুজালেমে চালিয়েছে ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর গণহত্যা।
  • বর্তমান বিশ্বের সুপারপাওয়ার মার্কিন Department of War এর Secretary of War যখন নিজের শরীরে এই স্লোগান বহন করেন, তখন এটাকে ফ্যাশন মনে করার কোনো যুক্তি নেই। বুঝতে হবে তিনি দিবালোকে প্রকাশ্যে নিজেকে একজন ‘আধুনিক ক্রুসেডার’ হিসেবে জানান দিয়েছেন, যা সুস্পষ্টভাবে ইসলামি উম্মাহর বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত ‘আইডিওলজিক্যাল ওয়ার ডিক্লারেশন’ বা আদর্শিক যুদ্ধ ঘোষণা। সুতরাং ক্রুসেড আইডিওলজির মতোও তার কাছে বর্তমান বিশ্বের মুসলিম নিধন কোনো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না, বরং এটি তার কাছে ঈশ্বরের দায়িত্ব বা তার পাপ মোচনের মাধ্যম।

৩. পিট হেগসেথ ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (Department of Defense) এর নাম পরিবর্তন করে (Department of War) করার অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। সে ডিফেন্স দপ্তরকে ওয়ার দপ্তরে পরিবর্তন করে নিজে হয়েছেন যুদ্ধ সচিব Secretary of War।

মার্কিন দপ্তরের জন্য ‘ডিফেন্স’ বা প্রতিরক্ষা শব্দটিকে ছুড়ে ফেলে ‘ওয়ার’ বা যুদ্ধ শব্দটিকে বেছে নেওয়া হলো কেন? কারণ ডিফেন্স মানে নিজেকে বাঁচানো, আমার উপর অ্যাটাক হলে তখন প্রতিরক্ষা পারপাস অ্যাকশনে যাওয়া। আর ওয়ার মানে ধ্বংস, আমার যাকেই হুমকি মনে হবে তাকেই উড়িয়ে দেওয়া, ধ্বংস করা। ২০২৬-এ এসে আমেরিকার এই খোলস পাল্টানো আসলে বিশ্ববাসীকে দেওয়া একটি চরমপত্র। তারা তাদের লুকোচুরির দিন সমাপ্ত করেছে, এখন থেকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়ে গণহত্যা হবে এবং সেই গণহত্যার নেতৃত্বে দেবে আধুনিক ক্রুসেডার এই পিট হেগসেথ, যা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

৪. পিট হেগসেথ Secretary of War হয়েই সেই পুণ্যের গণহত্যার সূচনা করেছে ইরানের মাসুম বাচ্চাদের দিয়ে। আপনারা জানেন কি না জানি না, পরশু মার্কিন ও ইসরাইল ইরানে যে যৌথ হামলা চালায় তাতে তারা প্রথম টার্গেট করেছিল ইরানি একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল এবং এই হামলায় ১৩০ এর বেশি বাচ্চা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে এবং সেইসাথে তাদের অধিকাংশ এয়ার স্ট্রাইক চলেছে বেসরকারি জনগণের উপর। ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি এই নৃশংস যৌথ সামরিক হামলারই নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই পিট হেগসেথ.

পৃথিবীর এই ক্রান্তিকালে যখন প্রতিটা জনপদে মুসলিমদের উপর অ্যাটাক চলছে, যখন ধীরে ধীরে একেক রকম অজুহাতে উম্মাহর বীর লিডারদের টোটালি নাই করে দেওয়া হচ্ছে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাওয়া ইসলামিক দেশগুলোর উপর বিভিন্ন মিথ্যা অজুহাতে স্ট্রাইক চালিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মার্কিন Secretary of War হেগসেথের হাতে দাজ্জালের চিহ্ন কাফের শব্দ এবং ক্রুসেডারদের পবিত্র বাণী Deus lo vult অঙ্কিত থাকাটা কী বার্তা বহন করতে পারে, সেটা আশা করি বুঝতে পেরেছেন।



← Back to Investigations